1. admin@gomtirkagoj.com : admin :
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাকি টাকা চাওয়ায় কুমিল্লা কাপ্তান বাজারের জামিল সমিতির সভাপতি কে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি ও চারবারের এমপি মঞ্জু মুন্সি ছোট ভাই ডাঃ মনিরুজ্জামান এর ইন্তেকাল কুমিল্লা-৭,আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী লুতফুল রেজা খোকন তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যহার করে নিতে আবেদন করেছেন কুমিল্লা-৭,সংসদীয় আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সর্বস্তরের জনগণ শুভেচ্ছা জানান কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ চান্দিনায় পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ ৪ জন আটক কুমিল্লা-৭,আসনের নৌকার মাঝি ডা.প্রাণ গোপাল দত্ত কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক চলন্ত ট্রেনে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের চেষ্টাঃ ঘটনা মারাত্ম বেড়েছে কুমিল্লায় তিনটি কারখানায় ৪ লক্ষ ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও একটি কারখানা সিলগালা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত

চান্দিনায় নৌকার মাঝি হতে চান দূর্দিনের কান্ডারী শাহজাদা খোকার ছোট ভাই শিপন

গোমতী কাগজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫২ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টারঃ
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কুমিল্লা-৭ (তৎকালীন ৬) সংসদীয় আসন চান্দিনার শত শত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যখন ঘর ছাড়া, বাড়ি ছাড়া,মিথ্যা মামলা ও হামলায় যখন দিশেহারা তখন এই নির্যাতিত-নিপীড়িত নেতাকর্মীদের পাশে ত্রাণ কর্তা হিসেবে যে মানুষটি দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য প্রয়াত শাহজাদা মিয়া খোকা। তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় তার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনে ডেকে নিয়ে শাহজাদা খোকাকে বলেছিলেন, খোকা, তুমি আমার চান্দিনার নির্যাতিত-নিপীড়িত নেতাকর্মীদের দেখো,আমি তোমাকে মূল্যায়ন করব। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেই মূল্যায়নের সময় আসার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি। ফলে দলের প্রতি বড় ভাইয়ের অসামান্য অবদান ও দীর্ঘদিন ধরে নিজের কর্মের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে আসন্ন কুমিল্লা -৭ (চান্দিনা)সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকার মাঝি হতে চান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য প্রয়াত শাহজাদা মিয়া খোকার ছোট ভাই এড.মো. শাহজালাল মিঞা শিপন। তিনি বলেন, আমার প্রয়াত বড় ভাই খোকা সাহেব চান্দিনাকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্যই এবার উপনির্বাচনে আমি নৌকার প্রার্থী হতে চাই। গত ২৯ আগস্ট রোববার দৈনিক আমাদের কুমিল্লার সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এড.শিপন এ কথা বলেন।
মো.শাহজালাল মিঞা শিপন। ১৯৭০ সালের ১ জুলাই কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ১৩নং জোয়াগ ইউনিয়নের কৈলাইন গ্রামের মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মফিজুল ইসলাম মিঞা ও মাতা আনোয়ারা বেগম। পিতা মাতার সাত ছেলে ও দুই বোনের মধ্যে তার অবস্থান সপ্তম। কৈলাইন উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই তিনি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্রলীগে যোগ দেন। অংশগ্রহণ করা শুরু করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক মিছিল মিটিংয়ে। তিনি ১৯৮৬ সালে
এসএসসি, ১৯৮৮ সালে চাঁদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তী পর্যায়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ১৯৯৪ সালে কুমিল্লা আইন কলেজ থেকে এলএলবি পাস করেন। ২০০০ সালের ৯ আগস্ট কুমিল্লা জর্জ কোর্টের মাধ্যমে একজন আইনজীবী হিসেবে নিজের পেশাগত জীবন শুরু করেন। তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল কুমিল্লার সহকারী পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে কুমিল্লা উত্তর জেলা কৃষক লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কুমিল্লা আদালতে দরিদ্র,অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের উকিল হিসেবে তার সুখ্যাতি রয়েছে। এড. মো.শাহজালাল মিঞা শিপন যে ভিজিটিং কার্ড করেছে, সেখানে লেখা রয়েছে,আপনার যদি মামলা চালাতে টাকা না থাকে, তাহলে নি:সংকোচে আমাকে জানান। ২০০১ সাল থেকে এই পর্যন্ত চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের তিনশ’র অধিক রাজনৈতিক মামলা তিনি বিনা পয়সায় পরিচালনা করেছেন। আর এই সময়ে প্রায় ত্রিশ হাজার দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জামিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
আসন্ন কুমিল্লা-৭ চান্দিনা সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে আপনি অংশগ্রহণ করবেন কিনা জানতে চাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য প্রয়াত শাহজাদা মিয়া খোকার ছোট ভাই এডভোকেট মো.শাহজালাল মিঞা শিপন বলেন, ইনশাআল্লাহ অবশ্যই আমি আসন্ন উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। এই জন্য আমার প্রিয় নেত্রী বাংলার দু:খী মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল,জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা,জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন চাইব। আমার শুধু আশা নয় দৃঢ় বিশ^াস প্রিয় নেত্রী আমাকে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করবেন না।
দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আপনি এত বেশি আশাবাদী হলেন কীভাবে জানতে চাইলে এডভোকেট শিপন বলেন, ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে গোটা চান্দিনাকে নরকে পরিণত করে। এ সময় আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। তারা ঘর ছাড়া, বাড়ি ছাড়া হয়। তখন চান্দিনায় আওয়ামী লীগ অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ে। আমার বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাদা মিয়া খোকা অবহেলিত ও জোট সরকার কর্তৃক চরম নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ান। তাদেরকে ঢাকা,চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় বাসা ভাড়া করে কিংবা হোটেলে রেখে দিনের পর দিন আশ্রয় দিয়ে রেখেছেন। আর আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি যেন তাদের মামলাগুলো বিনা পয়সায় করি। সেই থেকে শুরু। ১৩ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে চান্দিনা উপজেলা গঠিত। আজ পর্যন্ত চান্দিনা আওয়ামী লীগের কেউ বলতে পারবে না আমি দলীয় মামলা চালাতে গিয়ে কোন নেতাকর্মীর কাছ থেকে একটি টাকা নিয়েছি। দলের প্রতি আমাদের দুই ভাইয়ের এই অবদানের কথা শুনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার বড় ভাইকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে বলেন, খোকা, তুমি আমার চান্দিনার নির্যাতিত জনগণকে দেখো,আমি তোমাকে মূল্যায়ন করব। তখন আমার ভাই, নেত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করে বলেছিল প্রিয় নেত্রী আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার বিশ^াস নেত্রী এবার শাহজাদা মিঞা খোকার পরিবারকে মূল্যায়ন করবে।
মনোনয়ন পেলে বিজয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট মো.শাহজালাল মিঞা শিপন বলেন, শতভাগ আশাবাদী। কারণ, চান্দিনার মানুষ জানে,শাহজাদা খোকা ভাই ও আমি তাদের জন্য কি করেছি। জীবনে কিছু পাওয়ার জন্য রাজনীতি আমার ভাইও করেনি এবং আমিও করি না। আমাদের রাজনীতি হলো শুধু চান্দিনার মাটি ও মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।
দলীয় মনোনয়ন না পেলে নির্বাচনে অংশ নিবেন কিনা জানতে চাইলে এডভোকেট মো.শাহজালাল মিঞা শিপন বলেন, প্রশ্নই আসে না। নেত্রী যেই সিদ্ধান্ত দিবেন সেই সিদ্ধান্ত মেনে দলের জন্য কাজ করব।
আপনি যদি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন তাহলে চান্দিনাবাসীর জন্য কি করবেন জানতে চাইলে এডভোকেট মো.শাহজালাল মিঞা শিপন বলেন, প্রিয় নেত্রী এবং দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় আর আল্লাহর রহমতে আর চান্দিনা জনগণের সহযোগিতায় আমি যদি এমপি নির্বাচিত হই তাহলে চান্দিনাকে আমি এমনভাবে গড়ে তুলব যাতে চান্দিনার জনগণ গর্ব করে বলতে পারে, আমি চান্দিনার সন্তান। দেশের অন্যান্য উপজেলা ও পৌরসভাগুলো থেকে ব্যতিক্রম করে চান্দিনাকে আমি বিনির্মাণ করব ইনশাআল্লাহ। যুব সমাজের কর্মসংস্থানে পরিকল্পিতভাবে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করব । সবাই কর্ম করলে একদিকে যেমন মাদকসহ অন্যান্য অপরাধ কমবে অন্য দিকে বেকার সমস্যা দূর হবে।
চান্দিনা আওয়ামী লীগ বর্তমানে প্রয়াত আলী আশরাফ গ্রুপ আর প্রাণ গোপাল গ্রুপে বিভক্ত। আপনি মনোনয়ন পেলে এই কোন্দল কিভাবে নিরসন করবেন জানতে চাইলে এডভোকেট মো.শাহজালাল মিঞা শিপন বলেন,মনে রাখবেন আমরা সবাই বঙ্গবন্ধু,শেখ হাসিনা ও নৌকার আলোয় আলোকিত। সুতরাং শুধু আমি না,নৌকা যেই পাবে,দেখবেন চান্দিনায় কোন গ্রুপিং থাকবে না। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য মাঠে নামবে।
চান্দিনাবাসীর উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য কি জানতে চাইলে এডভোকেট মো.শাহজালাল মিঞা শিপন বলেন, বক্তব্য শুধু একটাই,আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি মনোনয়ন পাই বা না পাই, আমি শিপন,খোকা ভাইয়ের ছোট ভাই। আমি,আমার ভাই ও আমাদের পরিবার আপনাদের সাথে ছিলাম,আছি এবং আজীবন থাকব ইনশাআল্লাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর